কৃষিশিক্ষা ক্লাসে স্যার বিভিন্ন ধরনের ভূমিক্ষয়ের কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেন। অতঃপর নিম্নরূপ দুটি ছবি প্রদর্শন করেন এবং এ সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা প্রদান করেন।

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

সাইলেজ তৈরির জন্য সংগৃহীত ঘাস কেটে যে বায়ু নিরোধক স্থান বা গর্তে রাখা হয় তাই হলো সাইলোপিট।

উত্তরঃ

মাটিতে সাধারণত ৫% জৈব পদার্থ থাকে। এ পদার্থটিকে বলা হয় মাটির জন্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
জৈব পদার্থের উপস্থিতি মাটিস্থ অণুজীবগুলোকে ক্রিয়াশীল করে। ফলে কার্বন, নাইট্রোজেন, ফসফরাস, সালফার, ক্যালসিয়াম ইত্যাদি উপাদান গাছের গ্রহণ উপযোগী হয়। এটি মাটিতে হিউমাস সৃষ্টি করে, যা মাটির উর্বরতার জন্য খুবই দরকারি। তাছাড়া মাটির পানি ধারণক্ষমতা বাড়ায় এবং গঠনকে উন্নত করে। মাটির অণুসমূহকে একে অপরের সাথে সংযুক্ত রাখতে সাহায্য করে। এসব কারণেই জৈব পদার্থকে 'মাটির প্রাণ' বলা হয়।

উত্তরঃ

প্রদর্শিত চিত্র-ক হলো প্রাকৃতিক ভূমিক্ষয় এবং চিত্র-খ হলো মানব সৃষ্ট ভূমিক্ষয়।
নিচে ভূমিক্ষয়ের বিভিন্ন ক্ষতিকারক দিকগুলো তুলে ধরা হলো-
i. ভূমিক্ষয়ের কারণে জমির পুষ্টিসমৃদ্ধ উপরের স্তরের মাটি অন্যত্র চলে যায়। ফলে মাটির উর্বরতা নষ্ট হয়।
ii. ভূমিক্ষয়ের ফলে মাটিতে পুষ্টির অভাব দেখা দেয়। ফলশ্রুতিতে ফসলের বৃদ্ধিতে ব্যাঘাত ঘটে।
iii. ক্রমাগত ভূমিক্ষয়ের কারণে নদী-নালা ও হাওর-বিল ভরাট হয়ে যায়। ফলে দেশে প্রায়ই বন্যার প্রাদুর্ভাব ঘটে। এতে ফসল, পশুপাখি বাড়িঘরের অনেক ক্ষতি হয়।
iv. ভূমিক্ষয়ের বিরাট অংশ নদীতে জমা হয়। এতে নদীর গভীরতা কমে যায় এবং নৌ চলাচলের বিঘ্ন ঘটে।

উত্তরঃ

চিত্র-ক হলো প্রাকৃতিক ভূমিক্ষয়। নানাবিধ কারণে চিত্র-ক এর ভূমিক্ষয় ঘটতে পারে। নিম্নে এই ভূমিক্ষয়ের কারণ ও হ্রাসক্রণের উপায় বর্ণনা করা হলো-
ভূমিক্ষয়ের কারণ:

প্রাকৃতিক ভূমিক্ষয়ে প্রকৃতির হস্তক্ষেপ ব্যাপক। ভূ-সৃষ্টির পর থেকেই এর ক্ষয় শুরু হয়েছে। বায়ুপ্রবাহ ও বৃষ্টিপাত প্রাকৃতিক কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম। ক্রমাগত বৃষ্টিপাতের ফলে মাটি যখন শোষণ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে তখন অতিরিক্ত পানি মাটির উপরের স্তরের কণা বহণ করে নিম্ন স্থানে নিয়ে যায়। ফলে মাটি আলগা হয়ে ভূমিক্ষয় হয়। আবার যেসব এলাকা সমতল, গাছপালা কম, বৃষ্টিপাত কম হয় সেসব এলাকায় প্রবল বায়ুর বেগে মাটি উড়ে গিয়ে ভুমিক্ষয় হয়।

ভূমিক্ষয় রোধের উপায়: ভূমিক্ষয়রোধ করতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অবলম্বন করতে হবে -
i. বাঁধ বা আল দিয়ে পানি প্রবাহ হ্রাস করা।
ii. রিল ভূমিক্ষয়ের ফলে সৃষ্ট ছোট ছোট নালা ভরাট করা।
iii. বড় নালার মধ্যে আগাছা জন্মাতে দেওয়া এবং শেষ প্রান্তে তারের জাল বেঁধে দেওয়া।
iv. জমি থেকে সহজেই যেন পানি নিষ্কাশিত হতে পারে সেই ব্যবস্থা করা। কারণ, পানি জমে থাকলে জমির মাটি আলগা হয়ে যায় এবং ক্ষয়ের সম্ভাবনা বাড়ে।
V. মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ বাড়ানো। কারণ জৈব পদার্থের কারণে দানাবন্ধন ভালো হয়।

245

কৃষিকাজ এবং কৃষি প্রযুক্তি একে অপরের পরিপূরক । মূলত যে প্রক্রিয়ায় কৃষি কাজ করা হয় তাই হচ্ছে কৃষি প্রযুক্তি । প্রতিটি কৃষিকাজের সাথে সুনির্দিষ্ট কৃষি প্রযুক্তির সম্পর্ক রয়েছে । বর্তমানে কৃষি আর শুধু পারিবারিক খাদ্য সংস্থানের বিষয় নয়। এটা এখন ব্যবসায়িক পেশায় উন্নীত হয়েছে। আগে কৃষি বলতে জমি হাল-চাষ করে বীজ বুনে ঘরে ফসল তুলে বছরের খোরাক সংগ্রহ করাকেই বোঝাত । কিন্তু এখন কৃষির প্রতিটি কাজে প্রযুক্তি ব্যবহারের খরচাদি ও ফসলের বাজারমূল্যের মাপকাঠিতে আয়-ব্যয়ের হিসাবনিকাশ করে ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গিতে কৃষিকে মূল্যায়ন করা হয়। তাই এখন কৃষি সমস্যা যেমন জটিলতর হচ্ছে তেমনি কৃষি বিজ্ঞানীরাও উচ্চতর জ্ঞানসমৃদ্ধ কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করছেন । পূর্বের শ্রেণিগুলোতে আমরা কৃষিকাজের নাম, সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তির নাম, কৃষি যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়াদি শিখেছি। নবম-দশম শ্রেণিতে আরও এক ধাপ এগিয়ে জমির প্রস্তুতি, উর্বরতা বৃদ্ধি, ফসলভিত্তিক মাটির বৈশিষ্ট্য, ভূমিক্ষয়, ভূমিক্ষয়রোধ, বীজ সংরক্ষণ, রোগবালাই দমন, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ইত্যাদি বিষয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি সম্পর্কে জানব ।

এই অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা-

  •   মাটি ও পরিবেশের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ফসল নির্বাচন করতে পারব;
  • ধাপ উল্লেখপূর্বক জমির প্রস্তুত পদ্ধতি বর্ণনা করতে পারব;
  •  জমি প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ করতে পারব;
  •  ভূমিক্ষয়, ভূমিক্ষয়ের কারণ ও প্রকারভেদ ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • ভূমিক্ষয়ের ক্ষতিকারক দিকগুলো বর্ণনা করতে পারব; ভূমিক্ষয়ের কার্যকরী উপায়সমূহ বিশ্লেষণ করতে পারব;
  •  বীজ সংরক্ষণের পদ্ধতিগুলো বর্ণনা করতে পারব;
  •  বীজ সংরক্ষণের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব;
  •  শস্যবীজ সংরক্ষণ করতে পারব;
  • মাছ ও পশুপাখির খাদ্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • মাছ ও পশুপাখির খাদ্য সংরক্ষণের ধাপগুলো বর্ণনা করতে পারব;
  • সম্পূরক খাদ্য সম্পর্কে ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • মাছের ও পশুপাখির সম্পূরক খাদ্য তালিকা তৈরি করতে পারব; মাছ ও পশুপাখির সম্পূরক খাদ্যের প্রয়োগ পদ্ধতি বর্ণনা করতে পারব;
  • মাছ ও পশুপাখির দ্রুত বৃদ্ধি ও পরিপুষ্টির জন্য সম্পূরক খাদ্যের প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ করতে পারব ।

Related Question

View All
উত্তরঃ

ভূ-পৃষ্ঠের নরম স্তর যেখানে ফসল জন্মায়, বন সৃষ্টি হয়, গবাদিপশু বিচরণ করে তাকে মাটি বলে।

824
উত্তরঃ

FCR (Food Conversion Ratio) হলো প্রয়োগকৃত খাদ্য ও খাদ্য গ্রহণের ফলে জীবের দৈহিক বৃদ্ধির অনুপাত। অর্থাৎ, ১ কেজি মাছ পেতে যত কেজি খাবার খাওয়াতে হয়, তাই FCR। FCR-এর মান কম হওয়ার অর্থ অল্প পরিমাণ খাদ্য প্রয়োগ করে অধিক উৎপাদন। যদি কম খাবার খেয়েও মাছের দ্রুত বৃদ্ধি হয় তবে বুঝতে হবে খাদ্যের গুণগত মান ভালো। সুতরাং, FCR-এর মান যত কম খাদ্যের গুণগত মান তত ভালো।

5.2k
উত্তরঃ

বীজ থেকে আর্দ্রতা বের করে দিয়ে তাতে কতটুকু আর্দ্রতা আছে তা নির্ণয় করার পদ্ধতিকে বীজের আর্দ্রতা পরীক্ষা বলে।

সফিক সাহেবের সংগ্রহকৃত নমুনা বীজের ওজন = ১০০ গ্রাম। আর্দ্রতা বের করার পর ওজন = ৯০ গ্রাম।

সুতরাং, সফিক সাহেবের বীজের আর্দ্রতার হার

= নমুনা বীজের ওজন – নমুনা বীজ শুকানোর পর ওজন/নমুনা বীজের ওজন × ১০০

=  - ×  = 

অতএব, সফিক সাহেবের বীজের আর্দ্রতার হার ছিল ১০%।

3.5k
উত্তরঃ

সফিক সাহেব গমের আবাদ করার জন্য বীজের আর্দ্রতা, অঙ্কুরোদগম ও সতেজতা পরীক্ষা করেন।
সফিক সাহেবের বীজ পরীক্ষার কার্যক্রমটি তার সচেতনতার পরিচয় বহন করে। এই সচেতনতার কারণেই তিনি ভালো মানের বীজ বপন করে কাঙ্ক্ষিত ফলন পান। মূল জমিতে বপনের পূর্বে তিনি বীজের আর্দ্রতা পরীক্ষা করে নেন। গমের ক্ষেত্রে বীজের আর্দ্রতা ১২-১৩% রাখা ভালো। বীজের আর্দ্রতার হার যত বেশি হবে বীজের গজানোর ক্ষমতা ও তেজ ততই হ্রাস পাবে। তাই বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা ও জীবনীশক্তি বাড়াতে উপযুক্ত আর্দ্রতায় শুকিয়ে নিতে হবে। এরপর তিনি বীজের অঙ্কুরোদগম ও সতেজতা পরীক্ষা করেন। নমুনা বীজের শতকরা যতটি বীজ গজায় তাই বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা। ভালো বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা থাকে প্রায় ৮০% এর উপরে। অপরদিকে বীজের সতেজতা হলো প্রতিকূল পরিবেশে বীজের অঙ্কুরিত হওয়ার ক্ষমতা।
বীজের সতেজতা ও অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা কাঙ্ক্ষিত মানের না হলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে না।
পরিশেষে বলা যায়, সফিক সাহেব উল্লিখিত পরীক্ষাগুলোর মাধ্যমে বীজের মান নির্ধারণ করে উন্নত বীজ ব্যবহার করতে সক্ষম হন এবং কাঙ্ক্ষিত ফলন পান। অর্থাৎ, তার বীজ পরীক্ষার কার্যক্রমটি যথার্থ ছিল।

2.4k
উত্তরঃ

প্রাকৃতিক খাদ্যের পাশাপাশি মাছের দ্রুত বৃদ্ধির জন্য যে অতিরিক্ত খাদ্য দেওয়া হয় তাকে সম্পূরক খাদ্য বলে।

3.2k
উত্তরঃ

দেহের বৃদ্ধি ও বেঁচে থাকার জন্য মাছ পুকুরের প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে ফাইটোপ্লাংকটন (উদ্ভিদকণা) ও জু-প্লাংকটন (প্রাণীকণা) খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। কিন্তু, মাছ চাষের ক্ষেত্রে অধিক উৎপাদন পাওয়ার জন্য পুকুরে অধিক ঘনত্বে পোনা ছাড়া হয়। এ অবস্থায় শুধু প্রাকৃতিক খাদ্য মাছের দ্রুত বৃদ্ধি ঘটাতে পারে না। এমনকি সার প্রয়োগ করে প্রাকৃতিক খাদ্য বৃদ্ধি করলেও তা যথেষ্ট হয় না।
মাছকে প্রাকৃতিক খাদ্যের পাশপাশি সম্পূরক খাদ্য দিতে হয়। সম্পূরক খাদ্যে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের মাত্রা চাহিদা অনুযায়ী থাকে। যা মাছের দ্রুত দৈহিক বৃদ্ধি ঘটিয়ে অধিক মুনাফা অর্জনে সহযোগিতা করে। অর্থাৎ, মাছ চাষে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক উৎপাদন পাওয়ার জন্য প্রাকৃতিক খাদ্য যথেষ্ট নয়।

2.2k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews