সাইলেজ তৈরির জন্য সংগৃহীত ঘাস কেটে যে বায়ু নিরোধক স্থান বা গর্তে রাখা হয় তাই হলো সাইলোপিট।
মাটিতে সাধারণত ৫% জৈব পদার্থ থাকে। এ পদার্থটিকে বলা হয় মাটির জন্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
জৈব পদার্থের উপস্থিতি মাটিস্থ অণুজীবগুলোকে ক্রিয়াশীল করে। ফলে কার্বন, নাইট্রোজেন, ফসফরাস, সালফার, ক্যালসিয়াম ইত্যাদি উপাদান গাছের গ্রহণ উপযোগী হয়। এটি মাটিতে হিউমাস সৃষ্টি করে, যা মাটির উর্বরতার জন্য খুবই দরকারি। তাছাড়া মাটির পানি ধারণক্ষমতা বাড়ায় এবং গঠনকে উন্নত করে। মাটির অণুসমূহকে একে অপরের সাথে সংযুক্ত রাখতে সাহায্য করে। এসব কারণেই জৈব পদার্থকে 'মাটির প্রাণ' বলা হয়।
প্রদর্শিত চিত্র-ক হলো প্রাকৃতিক ভূমিক্ষয় এবং চিত্র-খ হলো মানব সৃষ্ট ভূমিক্ষয়।
নিচে ভূমিক্ষয়ের বিভিন্ন ক্ষতিকারক দিকগুলো তুলে ধরা হলো-
i. ভূমিক্ষয়ের কারণে জমির পুষ্টিসমৃদ্ধ উপরের স্তরের মাটি অন্যত্র চলে যায়। ফলে মাটির উর্বরতা নষ্ট হয়।
ii. ভূমিক্ষয়ের ফলে মাটিতে পুষ্টির অভাব দেখা দেয়। ফলশ্রুতিতে ফসলের বৃদ্ধিতে ব্যাঘাত ঘটে।
iii. ক্রমাগত ভূমিক্ষয়ের কারণে নদী-নালা ও হাওর-বিল ভরাট হয়ে যায়। ফলে দেশে প্রায়ই বন্যার প্রাদুর্ভাব ঘটে। এতে ফসল, পশুপাখি বাড়িঘরের অনেক ক্ষতি হয়।
iv. ভূমিক্ষয়ের বিরাট অংশ নদীতে জমা হয়। এতে নদীর গভীরতা কমে যায় এবং নৌ চলাচলের বিঘ্ন ঘটে।
চিত্র-ক হলো প্রাকৃতিক ভূমিক্ষয়। নানাবিধ কারণে চিত্র-ক এর ভূমিক্ষয় ঘটতে পারে। নিম্নে এই ভূমিক্ষয়ের কারণ ও হ্রাসক্রণের উপায় বর্ণনা করা হলো-
ভূমিক্ষয়ের কারণ:
প্রাকৃতিক ভূমিক্ষয়ে প্রকৃতির হস্তক্ষেপ ব্যাপক। ভূ-সৃষ্টির পর থেকেই এর ক্ষয় শুরু হয়েছে। বায়ুপ্রবাহ ও বৃষ্টিপাত প্রাকৃতিক কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম। ক্রমাগত বৃষ্টিপাতের ফলে মাটি যখন শোষণ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে তখন অতিরিক্ত পানি মাটির উপরের স্তরের কণা বহণ করে নিম্ন স্থানে নিয়ে যায়। ফলে মাটি আলগা হয়ে ভূমিক্ষয় হয়। আবার যেসব এলাকা সমতল, গাছপালা কম, বৃষ্টিপাত কম হয় সেসব এলাকায় প্রবল বায়ুর বেগে মাটি উড়ে গিয়ে ভুমিক্ষয় হয়।
ভূমিক্ষয় রোধের উপায়: ভূমিক্ষয়রোধ করতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অবলম্বন করতে হবে -
i. বাঁধ বা আল দিয়ে পানি প্রবাহ হ্রাস করা।
ii. রিল ভূমিক্ষয়ের ফলে সৃষ্ট ছোট ছোট নালা ভরাট করা।
iii. বড় নালার মধ্যে আগাছা জন্মাতে দেওয়া এবং শেষ প্রান্তে তারের জাল বেঁধে দেওয়া।
iv. জমি থেকে সহজেই যেন পানি নিষ্কাশিত হতে পারে সেই ব্যবস্থা করা। কারণ, পানি জমে থাকলে জমির মাটি আলগা হয়ে যায় এবং ক্ষয়ের সম্ভাবনা বাড়ে।
V. মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ বাড়ানো। কারণ জৈব পদার্থের কারণে দানাবন্ধন ভালো হয়।
Related Question
View Allভূ-পৃষ্ঠের নরম স্তর যেখানে ফসল জন্মায়, বন সৃষ্টি হয়, গবাদিপশু বিচরণ করে তাকে মাটি বলে।
FCR (Food Conversion Ratio) হলো প্রয়োগকৃত খাদ্য ও খাদ্য গ্রহণের ফলে জীবের দৈহিক বৃদ্ধির অনুপাত। অর্থাৎ, ১ কেজি মাছ পেতে যত কেজি খাবার খাওয়াতে হয়, তাই FCR। FCR-এর মান কম হওয়ার অর্থ অল্প পরিমাণ খাদ্য প্রয়োগ করে অধিক উৎপাদন। যদি কম খাবার খেয়েও মাছের দ্রুত বৃদ্ধি হয় তবে বুঝতে হবে খাদ্যের গুণগত মান ভালো। সুতরাং, FCR-এর মান যত কম খাদ্যের গুণগত মান তত ভালো।
বীজ থেকে আর্দ্রতা বের করে দিয়ে তাতে কতটুকু আর্দ্রতা আছে তা নির্ণয় করার পদ্ধতিকে বীজের আর্দ্রতা পরীক্ষা বলে।
সফিক সাহেবের সংগ্রহকৃত নমুনা বীজের ওজন = ১০০ গ্রাম। আর্দ্রতা বের করার পর ওজন = ৯০ গ্রাম।
সুতরাং, সফিক সাহেবের বীজের আর্দ্রতার হার
= নমুনা বীজের ওজন – নমুনা বীজ শুকানোর পর ওজন/নমুনা বীজের ওজন × ১০০
অতএব, সফিক সাহেবের বীজের আর্দ্রতার হার ছিল ১০%।
সফিক সাহেব গমের আবাদ করার জন্য বীজের আর্দ্রতা, অঙ্কুরোদগম ও সতেজতা পরীক্ষা করেন।
সফিক সাহেবের বীজ পরীক্ষার কার্যক্রমটি তার সচেতনতার পরিচয় বহন করে। এই সচেতনতার কারণেই তিনি ভালো মানের বীজ বপন করে কাঙ্ক্ষিত ফলন পান। মূল জমিতে বপনের পূর্বে তিনি বীজের আর্দ্রতা পরীক্ষা করে নেন। গমের ক্ষেত্রে বীজের আর্দ্রতা ১২-১৩% রাখা ভালো। বীজের আর্দ্রতার হার যত বেশি হবে বীজের গজানোর ক্ষমতা ও তেজ ততই হ্রাস পাবে। তাই বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা ও জীবনীশক্তি বাড়াতে উপযুক্ত আর্দ্রতায় শুকিয়ে নিতে হবে। এরপর তিনি বীজের অঙ্কুরোদগম ও সতেজতা পরীক্ষা করেন। নমুনা বীজের শতকরা যতটি বীজ গজায় তাই বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা। ভালো বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা থাকে প্রায় ৮০% এর উপরে। অপরদিকে বীজের সতেজতা হলো প্রতিকূল পরিবেশে বীজের অঙ্কুরিত হওয়ার ক্ষমতা।
বীজের সতেজতা ও অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা কাঙ্ক্ষিত মানের না হলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে না।
পরিশেষে বলা যায়, সফিক সাহেব উল্লিখিত পরীক্ষাগুলোর মাধ্যমে বীজের মান নির্ধারণ করে উন্নত বীজ ব্যবহার করতে সক্ষম হন এবং কাঙ্ক্ষিত ফলন পান। অর্থাৎ, তার বীজ পরীক্ষার কার্যক্রমটি যথার্থ ছিল।
প্রাকৃতিক খাদ্যের পাশাপাশি মাছের দ্রুত বৃদ্ধির জন্য যে অতিরিক্ত খাদ্য দেওয়া হয় তাকে সম্পূরক খাদ্য বলে।
দেহের বৃদ্ধি ও বেঁচে থাকার জন্য মাছ পুকুরের প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে ফাইটোপ্লাংকটন (উদ্ভিদকণা) ও জু-প্লাংকটন (প্রাণীকণা) খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। কিন্তু, মাছ চাষের ক্ষেত্রে অধিক উৎপাদন পাওয়ার জন্য পুকুরে অধিক ঘনত্বে পোনা ছাড়া হয়। এ অবস্থায় শুধু প্রাকৃতিক খাদ্য মাছের দ্রুত বৃদ্ধি ঘটাতে পারে না। এমনকি সার প্রয়োগ করে প্রাকৃতিক খাদ্য বৃদ্ধি করলেও তা যথেষ্ট হয় না।
মাছকে প্রাকৃতিক খাদ্যের পাশপাশি সম্পূরক খাদ্য দিতে হয়। সম্পূরক খাদ্যে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের মাত্রা চাহিদা অনুযায়ী থাকে। যা মাছের দ্রুত দৈহিক বৃদ্ধি ঘটিয়ে অধিক মুনাফা অর্জনে সহযোগিতা করে। অর্থাৎ, মাছ চাষে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক উৎপাদন পাওয়ার জন্য প্রাকৃতিক খাদ্য যথেষ্ট নয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!